সাফিয়াকে আয়িশার গালাগালি
ইসলামের ইতিহাসে নবী মুহাম্মদ (সা.)–এর স্ত্রীদের জীবন কেবল ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং তা সামাজিক আচরণ, নৈতিকতা ও মানবিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বিশেষ করে সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রা.)–এর জীবন আমাদের সামনে এমন কিছু বাস্তবতা তুলে ধরে, যা আজও সমাজে বিদ্যমান। তিনি ছিলেন ইহুদি বংশোদ্ভূত, আর এই পরিচয়ের কারণেই তাকে নানা রকম কটূক্তি ও বিদ্রূপ সহ্য করতে হয়েছে—এমনকি ঘরের ভেতর থেকেও।
বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, সাফিয়্যাকে তার বংশ ও শারীরিক গড়নের কারণে অপমানজনক কথা শুনতে হতো। বিষয়টি এখানেই থেমে থাকে না; বরং ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত সম্মানিত একজন নারী, নবীর স্ত্রী আয়িশা (রা.)–এর কাছ থেকেও এমন মন্তব্যের ঘটনা পাওয়া যায়। এর অর্থ দাঁড়ায়, সাফিয়্যার প্রতি বিদ্রূপ শুধু সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ঘরের ভেতরেও প্রতিফলিত হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যেখানে বিদ্রূপ ও ব্যঙ্গের নৈতিক পরিণতি অত্যন্ত শক্ত ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৩৫/ কিয়ামত ও মর্মস্পর্শী বিষয়
পরিচ্ছেদঃ ৫১. (ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা বা নকল সাজা নিষেধ)
২৫০২। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি জনৈক ব্যক্তির চালচলন নকল করে দেখালাম। তিনি বললেন, আমাকে এই পরিমাণ সম্পদ প্রদান করা হলেও কারো চালচলন নকল করা আমাকে আনন্দ দেয় না। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সাফিয়্যা তো বামন মহিলা লোক, এই বলে তিনি তা হাতের ইশারায় দেখালেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এমন একটি কথার দ্বারা বিদ্রুপ করেছো, তা সাগরের পানির সাথে মিশালেও তা উক্ত পানিকে দূষিত করে ফেলতো।
সহীহঃ মিশকাত তাহকীক সানী (৪৮৫৩, ৪৮৫৭), গাইয়াতুল মারাম (৪২৭)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)
