সাফিয়্যাকে নবীর গালাগালির কারণ।

সাফিয়্যাকে নবীর গালাগালির কারণ
সাফিয়্যাকে নবীর গালাগালির কারণ

স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া, রাগ, মনোমালিন্য হওয়া স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে এসব বিষয় আলাদা গুরুত্ব পায় না। কিন্তু কেউ যদি নিজেকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ ও সবার জন্য আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করে, তাহলে তার আচরণ আর ব্যক্তিগত থাকে না। বিশেষ করে যদি সেই আচরণ অন্যায়, অবমাননাকর বা অনৈতিক হয় এবং তা ধর্মীয় বিধানের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা সমালোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

এই লেখার উদ্দেশ্য হলো—নবী মুহাম্মদের জীবনের একটি বিতর্কিত ও নিন্দনীয় ঘটনার সংক্ষিপ্ত ও যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা।


ঘটনার সারসংক্ষেপ

এই ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায় মুসলিমদের লিখিত হাদিস গ্রন্থে। যেহেতু নবীর সমালোচনামূলক কোনো বিরোধী বর্ণনা সংরক্ষিত নেই, তাই বিদ্যমান সূত্র থেকেই যুক্তি দিয়ে বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে হয়।

একটি হাদিস অনুযায়ী, হজের সময় নবী মুহাম্মদ তার স্ত্রীদের নিয়ে সফরে ছিলেন। প্রথমে তিনি আয়িশার কাছে যান, কিন্তু তিনি ঋতুবতী থাকায় সহবাস সম্ভব হয়নি। এরপর তিনি সাফিয়্যার কাছে যান এবং তাকেও ঋতুবতী অবস্থায় পান। এতে তিনি বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে সাফিয়্যাকে “বন্ধ্যা” ও “নেড়ি” বলে গালাগালি করেন।

এই গালিগুলো আদৌ কোনো স্বাভাবিক কথা নয়; বরং এগুলো স্পষ্টতই অবমাননাকর ও অসম্মানজনক।


সামাজিক প্রেক্ষাপট

একাধিক স্ত্রীর সংসারে প্রায়ই দেখা যায়, স্ত্রীর পারিবারিক পরিচয়ের ওপর তার সম্মান নির্ভর করে। নবীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি ব্যতিক্রম ছিল না।
আয়িশা ছিলেন আবু বকরের কন্যা এবং হাফসা ছিলেন উমরের কন্যা—দুজনই প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান।
অন্যদিকে সাফিয়্যা ছিলেন একজন ইহুদি নারী, যিনি যুদ্ধবন্দী হিসেবে নবীর দখলে আসেন। তার পিতা ও স্বামী নবীর বাহিনীর হাতে নিহত হন। ফলে সামাজিকভাবে তিনি অন্য স্ত্রীদের তুলনায় দুর্বল অবস্থানে ছিলেন—এটাই বাস্তবতা।


“বন্ধ্যা” শব্দের অর্থ

কোনো নারী দীর্ঘদিন স্বাভাবিক যৌনসম্পর্কের পরও গর্ভধারণে সক্ষম না হলে তাকে বন্ধ্যা বলা হয়। রক্ষণশীল সমাজে এই শব্দটি নারীর জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। সন্তান জন্ম দিতে না পারলে নারীর মূল্যহীনতা বোঝাতে এই শব্দটি গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এমন শব্দ ব্যবহার করা মানেই একজন নারীকে চরমভাবে হেয় করা।


সাফিয়্যাকে গালাগালির ঘটনা

নবী মুহাম্মদ সাফিয়্যার তাঁবুতে গিয়ে তাকে চিন্তিত ও বিমর্ষ অবস্থায় দেখতে পান। সেই সময় তিনি রাগের মাথায় তাকে বন্ধ্যা ও নেড়ি বলে গালাগালি করেন। এই কথাগুলো হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৬/ হাজ্জ
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. বিদায়ী তাওয়াফ বাধ্যতামুলক কিন্তু ঋতুমতী মহিলার ক্ষেত্রে তা পরিত্যাজ্য
৩০৯৮। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার ও উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহঃ) … হাকাম ইবরাহীম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে এবং তিনি আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রওনা হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন সাফিয়্যাকে তাঁর তাঁবুর দরজায় চিন্তিতা ও অবসাদগ্রস্তা দেখতে পেলেন। তিনি বললেনঃ বন্ধ্যা, নেড়ি! তুমি আমাদের (এখানে) আটকে রাখবে? তিনি পুনরায় তাকে বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন (বায়তুল্লাহ) যিয়ারত করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে রওনা হও।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিনত আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)


15th The Book of Pilgrimage
(67)Chapter: The farewell Tawaf is obligatory, but it is waived in the case of menstruating women
‘A’isha (Allah be pleased with her) reported:
When Allah’s Apostle (ﷺ) decided to march (for return journey), he found Safiyyah at the door of her tent, sad and downcast. He remarked. Barren, shaven-head, you are going to detain us, and then said: Did you perform Tawaf Ifada on the Day of Nahr? She replied in the affirmative, whereupon he said: Then march on.
Reference : Sahih Muslim 1211ag
In-book reference: Book 15, Hadith 432
USC-MSA web (English) reference: Book 7, Hadith 3066

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *